রবিবার, ১৪ Jul ২০২৪, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তিঃ
আমাদের সিলেট দর্পণ  ২৪ পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে , আমাদেরকে আপনাদের পরামর্শ ও মতামত দিতে পারেন news@sylhetdorpon.com এই ই-মেইলে ।
রমজানের বাজারের হাল হকিকত

রমজানের বাজারের হাল হকিকত

নিউজ ডেস্ক ◾রমজান মাসকে সামনে রেখে কয়েকটি পণ্যের দাম লাফ দিয়ে বেড়ে চলছে।মাছ, মাংস, বেগুন সহ কয়েকটি পণ্যের দাম লাগামহীন বেড়ে চলছে।তবে কয়েকটি পণ্যের দামে কিছুটা স্বস্তির খবরও আছে।

অন্যদিকে বাজার-বিশ্নেষকরা মনে করছেন, করোনা সংকট কাটিয়ে ওঠার মুহূর্তে নিত্যপণ্যের দাম বাড়া মানে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’।

ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে রমজানের সময় নিত্যপণ্যের দাম বাড়ান। পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বাজারে তদারকি ও নজরদারিতেও রয়েছে গাফিলতি। পণ্য আমদানি, মজুত ও সরবরাহের পরিমাণ চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেন তারা।

দেশে মাছের বাজারে আগুন লেগেছে।ইলিশে হাত দেওয়া যাচ্ছে না। বড় আকারের ইলিশের কেজি এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৩০০ টাকা। ফলে এক কেজি ২০০ কিংবা ৩০০ গ্রাম ওজনের একেকটি ইলিশের দাম পড়ছে এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৭০০ টাকা। সেই হিসাবে এক হালি ইলিশের দাম ছয় থেকে সাড়ে ছয় হাজার টাকার বেশি। ৮ থেকে ১০ দিনের ফারাকে কেজিতে রুই মাছের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। বিক্রেতারা ছোট আকারের রুই মাছের কেজি হাঁকছেন ২৬০ থেকে ৩০০ টাকা। আর বড় আকারের রুই বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। কিছুদিন ধরে কৈ মাছের কেজি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছিল। এখন কেজি ২০০ টাকা। আর শিং মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকায়।স্বল্প আয়ের মানুষ যে মাছ দিয়ে আমিষের চাহিদা মেটায়, সেই পাঙাশ মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়; যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। তেলাপিয়া মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়, যা ১০ থেকে ১২ দিন আগে বিক্রি হয়েছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা।

গরুর মাংসের দাম শবেবরাতের আগে থেকেই চড়ে আছে। কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর খাসির মাংসের কেজিতে খরচ পড়বে ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা। ব্রয়লার মুরগির কেজিতে দাম বেড়েছে পাঁচ টাকা। গত সপ্তাহে ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকায় বিক্রি হলে গতকাল ব্রয়লারের কেজি বিক্রি হয়েছে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা। সোনালি জাতের মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা। তবে ডিমের দরে তেমন হেরফের নেই। ডজন কেনা যাচ্ছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায়।

বেড়েছে ইফতারি তৈরির উপাদানের দাম :ইফতারির জনপ্রিয় আইটেম বেগুনি, আলুর চপ ও পেঁয়াজু তৈরিতে যেসব উপাদান ব্যবহার করা হয়, সেগুলোর দামও বাড়তি। অ্যাঙ্কর ডালের দাম বাড়ার কারণে বেসনের দামও বেড়েছে। মাসখানেক আগে প্রতি কেজি অ্যাঙ্কর ডালের দাম ছিল ৪৫ টাকা। কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়ে এখন হয়েছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। প্রতি কেজি বেসনের খুচরা দাম ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, যা এত দিন কেনা যেত ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়। বেগুন কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। বাজারে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। ধনেপাতার কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা।

গত সপ্তাহে ১৭ থেকে ১৮ টাকায় আলু বিক্রি হলেও এক থেকে দুই টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ১৮ থেকে ২০ টাকা। তবে ছোলার বাজারে তেমন উত্তাপ নেই। প্রতি কেজি ছোলা কেনা যাবে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে, এক বছরের ব্যবধানে ছোলার দাম বেড়েছে ৩.৫৭ শতাংশ।

আমদানি করা মসুর ডালের কেজি ১০০ থেকে ১০৫ এবং দেশি মসুর ডালের কেজি ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রমজানে ইফতারির অন্যতম ফল খেজুর। মানভেদে প্রতি কেজি খেজুরে দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। বিভিন্ন নামের খেজুর পাওয়া যায় বাজারে। প্রতি কেজি আজোয়া খেজুর ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায়, মরিয়ম খেজুর ৬০০ থেকে ৬৫০ ও কালমি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সাধারণ মানের খেজুর পাওয়া যাবে ১১০ থেকে ১৩০ টাকায়। শরবত তৈরিতে বেশি ব্যবহার হয় লেবু ও মাল্টা। গত দুই দিনের ব্যবধানে কেজিতে মাল্টার দাম বেড়েছে ১০ টাকা। গত মঙ্গলবার মাল্টার কেজি ছিল ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা। তা এখন কিনতে ক্রেতাকে খরচ করতে হবে ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা। আঙুরের দামও বেড়েছে কেজিতে ২০ টাকা। প্রতি কেজি সবুজ আঙুর ২৫০ থেকে ২৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। বেড়েছে লেবুর দামও। বিক্রেতারা মাঝারি প্রতি হালি লেবুর দাম রাখছেন ৩০ থেকে ৩৫ টাকা।

চাল ও সবজির বাজার স্থির আছে।মিনিকেট চাল কেজি ৬৬ থেকে ৬৮, নাজিরশাইল ৭০ থেকে ৭৫, বিআর-২৮ জাতীয় চালের কেজি ৫৫ থেকে ৫৮ এবং স্বর্ণা বা মোটা চালের কেজি ৪৮ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, শীতের ভরা মৌসুমেও সবজির দাম তেমন কমেনি। এখনও দাম চড়া। বাজারে এখন সবচেয়ে দামি সবজি সজনে, কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। করলা, পটোল, শসাসহ বেশিরভাগ গ্রীষ্ফ্মের সবজির কেজি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। এ ছাড়া গাজর ২৫ থেকে ৩০, টমেটো ৩০ থেকে ৪০, কাঁচামরিচ ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

তেল, চিনি ও পেঁয়াজে কিছুটা স্বস্তি  আছে।সয়াবিন তেলের দাম নিয়ে নৈরাজ্য শুরু হলে সরকার পণ্যটির আমদানি, পরিশোধন ও ভোক্তা পর্যায়ে প্রায় ৩০ শতাংশ শুল্ক্ক, কর ও ভ্যাট বাবদ রাজস্ব ছাড় দেয়। ফলে আরও বাড়ার যে শঙ্কা ছিল, তা আপাতত নেই। তবে শুল্ক্ক কমানোর ফলে যে হারে কমার কথা ছিল, সে তুলনায় দাম কমেনি। বাজারে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেল ১৫৮ থেকে ১৬০ এবং পাম অয়েল ১৪৮ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া এক লিটারের বোতল ১৬০ থেকে ১৬৫ এবং পাঁচ লিটারের বোতল ৭৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

চিনির দাম সহনীয় রাখতে সম্পূরক শুল্ক্ক কমানো হয়। ফলে নতুন করে দাম বাড়েনি। বাজারে প্রতি কেজি খোলা চিনি ৭৭ থেকে ৮০ এবং প্যাকেটজাত চিনির কেজি ৮২ থেকে ৮৪ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এদিকে, বাজারে পেঁয়াজ এখন ক্রেতাবান্ধব। আমদানি অব্যাহত থাকায় বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে। প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ২০ থেকে ২২ ও আমদানি করা পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩২ টাকায় কেনা যাচ্ছে।

তবে অনান্য বছরের তুলনায় এবার রমজানের বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি একেবারেই কম।

নিউজটি শেয়ার করুন আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায়..

© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ সিলেট দর্পণ ।