রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ০২:০৯ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তিঃ
আমাদের সিলেট দর্পণ  ২৪ পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে , আমাদেরকে আপনাদের পরামর্শ ও মতামত দিতে পারেন news@sylhetdorpon.com এই ই-মেইলে ।
শিরোনাম :
জকিগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যাক্তি নিহত বিয়ানীবাজারে নিজ গৃহে বন্যার পানিতে ডুবে এক ব্যক্তির মৃত্যু কুলাউড়ায় মাছ ধরতে গিয়ে সাপের দংশনে যুবকের মৃত্যু সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী বিয়ানীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি,পানিবন্দি ২ লাখ মানুষ পুরো সিলেটে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা,বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন পৌনে ২ লাখ গ্রাহক সিলেটে দিশাহারা বানভাসি মানুষ,উদ্ধারে নামছে সেনাবাহিনী দুই লাখের বেশি মামলা নিষ্পত্তি করেছে গ্রাম আদালত শিক্ষকের গাফিলতির কারনে পানিতে ডুবে স্কুল ছাত্রের মৃত্যু বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হলেন আব্দুর রউফ তালুকদার
গরুর পা কাটার সাক্ষ্য দেয়ায় চোখ উপড়ে ঘাড় ভেঙে শিশুকে হত্যা

গরুর পা কাটার সাক্ষ্য দেয়ায় চোখ উপড়ে ঘাড় ভেঙে শিশুকে হত্যা

দর্পণ ডেস্ক : সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় গরুর পা কাটার সাক্ষ্য দেয়ায় মাদরাসাছাত্র রবিউল ইসলামের দুটি চোখ নষ্ট করে, ঘাড় ভেঙে ও শরীরের একাধিক স্থানে সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে।

বর্বর এই খুনিদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও জড়িতদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন নিহত রবিউল বাবা মো. আকবর আলী। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে মুঠোফোনে আলাপকালে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ছেলের খুনিদের নিষ্ঠুরতার বর্ণনা দেন তিনি।

উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের রহমাননগর গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ও স্থানীয় লতিফিয়া ইরশাদিয়া দাখিল মাদরাসার ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র রবিউল ইসলাম (১১) ১২ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় গাংগের পাড় এলাকায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়।

কিন্তু সে আর বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পাওয়ায় এলাকায় মাইকিং করান। সোমবার রাতে রবিউলের মামা শওকত আলী বিশ্বনাথ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নিখোঁজের পরদিন ১৩ অক্টোবর সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় রামপাশা-বৈরাগীবাজার সড়কের বাল্লার ব্রিজের সেতুর একটি ডোবায় রবিউল ইসলামের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়।

স্থানীয়রা জানায়, বছর খানেক আগে করপাড়া গ্রামের ছাদিকুর রহমান (৪৫) ও আব্দুল কাদিরের (৫০) ধানক্ষেতে চলে যায় গোয়াহরি গ্রামের আব্দুল হামিদের গরু। এ সময় ছাদিকুর রহমান ও আব্দুল কাদির গরুকে ধরে পা কেটে দেন।

বিষয়টি দেখেছিল রবিউল ইসলাম। সাক্ষী হিসেবে সে এক সালিশ বৈঠকে বিষয়টি জানায়। এরপর থেকে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রায় সময় রাস্তায় পেয়ে রবিউল ইসলামকে মারধর করতেন ছাদিকুর রহমান।

৭ অক্টোবর মুরিকোনা হাওরে গরুর ঘাস কাটতে গেলে রবিউলকে ছাদিকুর রহমান মারধর করেন। এ নিয়ে ৮ অক্টোবর রহমাননগর গ্রামের গণি মিয়ার বাড়িতে আরেকটি সালিশ বৈঠক হয়।

ওই দিন বৈঠক শেষে ছাদিকুর রহমান রবিউল ইসলামকে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান। হুমকি দেয়ার মাত্র তিনদিনের মাথায় রবিউল ইসলাম খুন হয়।

এ ঘটনায় ১৩ অক্টোবর নিহতের বাবা আকবর আলী বাদী হয়ে করপাড়া গ্রামের ছাদিকুর রহমান ও আব্দুল কাদিরসহ তিনজনের নাম উল্লেখ ও আরও ৩-৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বিশ্বনাথ থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই দিন বিকেলে মামলার আসামি উপজেলার করপাড়া গ্রামের আব্দুল কাদিরের স্ত্রী মাজেদা বেগমকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এ বিষয়ে বিশ্বনাথ থানা পুলিশের ওসি শামীম মুসা বলেন, এ ঘটনায় মাজেদা বেগম নামের একজন এজাহারনামীয় আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায়..

© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ সিলেট দর্পণ ।

কারিগরি সহায়তায়ঃ-ওরাকল আইটি