বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তিঃ
আমাদের সিলেট দর্পণ  ২৪ পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে , আমাদেরকে আপনাদের পরামর্শ ও মতামত দিতে পারেন news@sylhetdorpon.com এই ই-মেইলে ।
শিরোনাম :
মাহফুজের সাথে বিচ্ছেদ করে নতুন সংসার গড়লেন ইভা সিলেট নগরীতে আত্মহত্যা করেছে আপন দুই বোন জলবায়ু বিষয়ে বিশ্ব নেতাদের কাছে ৬টি প্রস্তাব পেশ করলেন শেখ হাসিনা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ৩৮ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজ লেখক, সংগঠক, অভিনেতা প্রশান্ত লিটনের ৪৩ তম জন্মদিন বিশ্বনাথে গলায় ছোরা চালিয়ে যুবকের আত্মহত্যা বহু সংখ্যক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্যদিয়ে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা সম্পন্ন গোলাপগঞ্জে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় দাদ-নাতির মৃত্যু স্কটল্যান্ডে সহকর্মীর ছুরিকাঘাতে বিয়ানীবাজারের এক যুবক খুন বিয়ানীবাজারের রামদায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ
মসজিদে চাঞ্চল্যকর যুবক হত্যা ; ৫ দিনের রিমান্ডে মসজিদের ইমাম ও নিহতের স্ত্রী

মসজিদে চাঞ্চল্যকর যুবক হত্যা ; ৫ দিনের রিমান্ডে মসজিদের ইমাম ও নিহতের স্ত্রী

নিউজ ডেস্ক :: রাজধানীর দক্ষিণখানে মসজিদের সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে নিখোঁজ যুবকের ৬ টুকরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় নিহতের স্ত্রী আসমা আক্তার ও মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমানের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (২৬ মে) তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের ১০ দিন করে রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম নিভানা খায়ের জেসী তাদের পাঁচদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মঙ্গলবার বিকালে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আবদুল মোত্তাকিম জানান, সোমবার রাত ৯টার দিকে র‌্যাব জানতে পারে দক্ষিণখানের সরদার বাড়ি জামে মসজিদের সেপটিক ট্যাংক থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে। এলাকাবাসীর কাছে জানতে পারে, গত ১৯ মে থেকে আজহার নামে এক যুবক নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজ আজহারকে খুঁজে বের করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। পরে গোয়েন্দা তৎপরতা এবং গোপন সূত্রের ভিত্তিতে হত্যাকারী চিহ্নিত করা হয়।

র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক আরও জানান, গার্মেন্টকর্মী আজাহারকে খুনের ঘটনায় মাওলানা মো. আবদুর রহমানকে দক্ষিণখান থানার মাদরাসাতুর রহমান আল আরাবিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় আসামির কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত তিনটি চাকু ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। আসামির দেওয়া তথ্য মতে মঙ্গলবার দক্ষিণখানের সরদার বাড়ি জামে মসজিদের সেপটিক ট্যাংক থেকে নিহত আজহারের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।

আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‌্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, মাওলানা মো. আবদুর রহমান সরদারবাড়ি জামে মসজিদে ৩৩ বছর ইমামতি করে আসছেন। আজহারের চার বছরের ছেলে মো. আরিয়ান ওই মসজিদের মক্তবে পড়াশোনা করত। আজহার নিজেও তার কাছে কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করতেন। গত ১৯ মে আসামি মাওলানা মো. আবদুর রহমানের সঙ্গে আজহারের কোনও একটা বিষয়ে কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আসামি ক্ষিপ্ত হয়ে আজহারের গলার ডানপাশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করে।

পরবর্তীতে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশে আজহারের লাশ টুকরা টুকরা করে সরদার বাড়ি জামে মসজিদের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রেখেছিলেন বলে জানান র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আবদুল মোত্তাকিম।

জানা গেছে, নিহত আজহারের স্ত্রীর সঙ্গে মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. আবদুর রহমানের সখ্য গড়ে ওঠে। এর প্রতিবাদ করতে মসজিদে গেলে আজহারকে পশু জবাইয়ের ছুরি দিয়ে নিজ কক্ষে খুন করেন আবদুর রহমান।

নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে নিহতের স্ত্রী আসমা বেগম জড়িত থাকায় তাকেও গ্রেফতার করা হয়।

জানা যায়, এই ঘটনার পেছনে পরকীয়ার সম্পর্ক আছে। ঘটনার একদিন আগে আসমা তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলে চলে যায়।

এদিকে, মোস্তফা নামের ওই এলাকার এক মুরব্বি গণমাধ্যমকে বলেন, মঙ্গলবার সকালে দুর্গন্ধ পাওয়া যায় মসজিদে। এ নিয়ে কানাকানি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা জেনে পুলিশ ও র‌্যাব এসে ছয় টুকরা লাশ উদ্ধার করে। পরে হুজুরকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় র‌্যাব।

রিফাত নামের আরেক মুসল্লি বলেন, “ঠিক কখন আজহারকে খুন করা হয় তা আমরা জানি না। তবে হত্যার পর লাশ মসজিদের ভেতরে রেখেই ইমাম সাহেব আমাদের নামাজ পড়ান বলে মনে হচ্ছে।”

র‌্যাব-পুলিশ যা বলছে: আজহার হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ইমাম আব্দুর রহমানের সঙ্গে নিহতের স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কের তথ্য বেরিয়ে এসেছে বলে র‌্যাব-পুলিশের সূত্র দাবি করেছে। সূত্র বলছে, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দক্ষিণখানের মধুবাগ এলাকায় ইউসুফ গাজীর ৩৯ নম্বর বাসায় ভাড়া থাকতেন আজহার। বাসায় আসা-যাওয়ার সূত্র ধরেই ইমামের সঙ্গে সম্পর্ক হয় তার স্ত্রীর। অন্তত এক বছর ধরে এই সম্পর্ক চলছিল। আজহার বিষয়টি টের পেয়ে পাঁচ মাস আগে বাসাও বদল করেন। ২০ দিন আগেও ইমাম ও আজহারের স্ত্রীর সাক্ষাৎ হয়। বিষয়টি জানতে পেরে আজহার স্ত্রীকে শাসায়।  এরপর  ইমামকে ফোন করে কঠোরভাবে কথা বলে। ইমাম বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে আজহারকে মসজিদে আসতে বলেন। সে অনুযায়ী ইমামের সঙ্গে দেখা করতে গত ১৯ মে দক্ষিণখানে সরদারবাড়ি মসজিদে আসার পর নিখোঁজ হন আজহার।

এ ঘটনা তদন্তের একপর্যায়ে দক্ষিণখানে মাদরাসাতুর রহমান আল আরাবিয়া থেকে আব্দুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সরদারবাড়ি জামে মসজিদের সেপটিক ট্যাংক থেকে আজহারের লাশ উদ্ধার করা হয়।

ডিএমপির দক্ষিণখান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আজিজুল হক মিয়া জানান, আজহার নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনও জিডি করা হয়নি। যেহেতু তার লাশ উদ্ধার হয়েছে, সেক্ষেত্রে এ ঘটনায় হত্যা মামলা করেন নিহতের ভাই।

নিউজটি শেয়ার করুন আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায়..

© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ সিলেট দর্পণ ।

কারিগরি সহায়তায়ঃ-ক্রিয়েটিভ জোন আইটি