মঙ্গলবার, ২৭ Jul ২০২১, ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তিঃ
আমাদের সিলেট দর্পণ  ২৪ পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে , আমাদেরকে আপনাদের পরামর্শ ও মতামত দিতে পারেন news@sylhetdorpon.com এই ই-মেইলে ।
শিরোনাম :
লিবিয়ায় হাসপাতালের আইসিইউতে এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু পবিত্র মক্কায় গলায় ফাঁস দিয়ে এক বাংলাদেশির আত্মহত্যা বিয়ানীবাজারে গ্রামপুলিশ কর্তৃক এএসআই রতন মিয়ার বিদায় সংবর্ধনা সিলেট -৩ আসনের উপনির্বাচন স্থগিত আগামী বছরের শুরুতে মিলবে ২১ কোটি ডোজ টিকা যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ানীবাজারের এক যুবকের আকষ্মিক মৃত্যু জকিগঞ্জে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসারের মৃত্যু, বাদ আসর জানাজা দুবাগ স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া স্মরণে ভার্চুয়াল আলোচনা ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন মাইকে ঘোষণা দিয়ে বিয়ানীবাজারের দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত অর্ধ শতাধিক ফকির আলমগীর আর আমাদের মাঝে নেই
এমসি ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ ; মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পেলে দুই মামলার বিচার একসঙ্গে শুরু হবে

এমসি ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ ; মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পেলে দুই মামলার বিচার একসঙ্গে শুরু হবে

দর্পণ ডেস্ক : স্বরাষ্ট্র্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেলেই সিলেটের এমসি ছাত্রাবাসের গণধর্ষণ ও ছিনতাই, চাঁদাবাজির ঘটনার দুই মামলার বিচার একই আদালতে একসঙ্গে শুরু করা হবে। আইনজীবীরা জানিয়েছেন- অনুমতির পত্রটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সেটি গেজেট হয়ে সিলেটে এলেই দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে দুই মামলা একসঙ্গে চলবে। এ কারণে গতকাল সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আসামিদের উপস্থিত করা হলেও মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়নি।

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল গত বছরের ২৫শে সেপ্টেম্বর। এ ঘটনার পর সিলেটে আসামি গ্রেপ্তার ও মামলার দ্রুত বিচারের জন্য আন্দোলন হয়েছিল। আলোচিত এ ঘটনায় মামলা দায়ের করার প্রায় দুই মাস পর তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেছিল তদন্ত সংস্থা সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। মামলার তদন্তে পুলিশ দুটি আলাদা অভিযোগে দুটি চার্জশিট দাখিল করে।

বিচারের জন্য গণধর্ষণের মামলাটি প্রেরণ করা হয়েছিল সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ও ছিনতাই এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে চার্জশিট প্রেরণ করা হয়েছিল মহানগর দায়রা জজ আদালতে। গত ১৭ই জানুয়ারি সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি চার্জ গঠনের মধ্যে বিচারকাজ শুরু হয়। কিন্তু মামলার বাদীপক্ষ এক ঘটনায় দুই মামলা পৃথক দুটি আদালতের পরিবর্তে একই আদালতে শুরু করার আর্জি জানান। সেটি সম্ভব না হওয়ার কারণে সিলেটের আদালত সেই আবেদন আমলে নেননি। পরবর্তীতে মামলার বাদীপক্ষ এ নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। শুনানি শেষে হাইকোর্টের বেঞ্চ দুই মামলার বিচার একই আদালতে শুরু করার নির্দেশনা দেন।

এদিকে হাইকোর্টের এই আদেশটি সরকারি কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়। সেই আদেশ গেজেট হয়ে ফিরে এলে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে দুই মামলার বিচার একসঙ্গে শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। বাদীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট শহীদুজ্জামান চৌধুরী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন- নারী নির্যাতন ও ছিনতাই, চাঁদাবাজির মামলাটি একত্রে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে শুরু করার জন্য প্রক্রিয়াধীন আছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত একটি গেজেট হবে। গেজেট হওয়ার পরই মামলার কার্যকারিতা শুরু হয়ে যাবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এপিপি রাশিদা সাইদা খানম জানিয়েছেন- দুই মামলাকে এক মামলা করে বিচার শুরু করতে হলে আবারো চার্জগঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু করতে হবে। সব ঘটনাকে একসঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম চলবে। আদেশ পাওয়ার পর সিলেটের আদালত এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি। এদিকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজির ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচারিক কার্যক্রম গত ১০ই ফেব্রুয়ারি শুরু করার কথা ছিল বলে জানিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবীরা। এ সময় হাইকোর্টে আবেদনের বিষয়টি আদালতকে অবগত করা হলে আদালত সেটির কার্যক্রমও মুলতবি রাখেন সিলেটের মহানগর দায়রা জজ আদালত। গত বছরের ২৫শে সেপ্টেম্বর সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণ করেছিল ছাত্রলীগের কর্মীরা। এ ঘটনায় তার স্বামী বাদী হয়ে মহানগর পুলিশের শাহপরান থানায় ছয় জনের নাম উল্লেখ করে এবং দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন। ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও তিনদিনের মধ্যে ছয় আসামি ও সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ ও র‌্যাব। গত ৩রা ডিসেম্বর ছাত্রলীগের আট নেতাকর্মীকে অভিযুক্ত করে মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর পুলিশের শাহপরান থানার ওসি (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য। অভিযোগপত্রে সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজনকে দলবেঁধে ধর্ষণের জন্য অভিযুক্ত করা হয়। আসামি রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুমকে ধর্ষণে সহায়তা করার জন্য অভিযুক্ত করা হয়। আট আসামিই বর্তমানে কারাগারে আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায়..

© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ সিলেট দর্পণ ।

কারিগরি সহায়তায়ঃ-ক্রিয়েটিভ জোন আইটি