সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তিঃ
আমাদের সিলেট দর্পণ  ২৪ পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে , আমাদেরকে আপনাদের পরামর্শ ও মতামত দিতে পারেন news@sylhetdorpon.com এই ই-মেইলে ।
শিরোনাম :
বিয়ানীবাজারে নামধারী ছাত্রলীগ ক্যাডার সালাউদ্দিন গ্রেফতার কানাইঘাটে কারেন্টে তারে লাগে দাদা-নাতির মৃত্যু চুনারুঘাটে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব ১২ বছর পর ধর্ষণ মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার করেছে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জানুয়ারিতে জেলা পরিষদ নির্বাচন দ্বিতীয় ধাপে ৮৪৮ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে চুনারুঘাটে ৮ ঘন্টার ব্যবধানে একই পরিবারে ৩ জনের মৃত্যু আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্ম দিন পালন করেছে বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগ মাদক বিরোধী অভিযানে জীবন উৎসর্গ করলেন পুলিশ কর্মকর্তা পিয়ারুল
রায়হানের মায়ের দাবি ; আকবরকে র‍্যাবের কাছে হস্তান্তরের

রায়হানের মায়ের দাবি ; আকবরকে র‍্যাবের কাছে হস্তান্তরের

দর্পণ ডেস্ক : সীমান্ত এলাকায় খাসিয়াদের হাতে আটকের পর কানাইঘাট থানায় হস্তান্তর হওয়া আকবর হোসেন ভূইয়াকে র‍্যাবের হাতে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম।

আকবরকে গ্রেফতারের পর সোমবার বিকেলে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ দাবি জানান।

সালমা বেগম বলেন, আকবরকে কিন্তু পুলিশ, পিবিআই কেউ গ্রেফতার করেনি। তাকে আটক করেছে জনগণ। এজন্য আমি জনগণকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। কারণ তারা বুঝতে পেরেছেন সন্তানহারা মায়ের আকুতি। তাই তারা আকবরকে আটক করেছেন। এখন আমার দাবি, আকবরকে যেন পুলিশ, পিবিআই কারো কাছে হস্তান্তর না করে র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার করা হয়।

রায়হানের মা আরো বলেন, আজ এতোদিন পর তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবুও আমার মন কিছুটা শান্তি পেয়েছে। এজন্য মানুষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তারাই আকবরকে আটক করেছেন।

আকবরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে সালমা বেগম বলেন, আমার ছেলের শরীরে ১১১টি আঘাত। তাই আমি চাইব আকবরকেও যেন এমন শাস্তি দেয়া হয় যাতে বাংলার মানুষ দেখতে পারে। আর আমার রায়হানের আত্মাও শান্তি পায়, তাতে মা হিসেবে আমিও শান্তি পাবো।

এর আগে বিকেল সাড়ে ৫টায় কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে কানাইঘাট থেকে আকবরকে সিলেটের এসপি কার্যালয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তাই বিকেল থেকে এসপি কার্যালয়ের আশপাশ এলাকায় সিলেট জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

অপরদিকে আকবরকে সিলেটে নিয়ে আসার পর সিলেট জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এক প্রেস কনফারেন্সে অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে এসপি কার্যালয়ে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এদিকে আকবরকে সিলেটে নিয়ে আসার খবরে বিক্ষুব্ধ জনতার ঢল নামে সিলেটের কোর্ট পয়েন্ট এলাকাসহ এসপি কার্যালয় ও বন্দরবাজার পুলিশ ফাড়ির আশপাশ এলাকায়।

এরও আগে গত রোববার গভীর রাতে ভারতের দনা সীমান্ত এলাকার খাসিয়াদের হেডম্যানরা রায়হান হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্ত এসআই আকবরকে আটক করে তাদের হেফাজতে রাখে। পরে সোমবার দুপুর ১টার দিকে ভারতীয় খাসিয়ারা আকবরকে বাংলাদেশ সীমান্তে স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীসহ লোকজনদের কাছে বুঝিয়ে দেন। পরে এ ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে থানা পুলিশ ও জেলা পুলিশের একটি টিম তাকে জনতার কাছ থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

গত ১১ অক্টোবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে গুরুতর আহত হন রায়হান। তাকে ওইদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন বন্দরবাজার ফাঁড়ির এএসআই আশেকে এলাহীসহ পুলিশ সদসরা। সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান রায়হান।

ঘটনার পর পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, নগরের কাস্টঘরে গণপিটুনিতে রায়হান নিহত হন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে প্রাণ হারান রায়হান।

এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে সিলেট মহানগর পুলিশের তদন্ত কমিটি ঘটনার সত্যতা পেয়ে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবরসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায়..

© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ সিলেট দর্পণ ।

কারিগরি সহায়তায়ঃ-ক্রিয়েটিভ জোন আইটি