শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ০৬:১৫ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তিঃ
আমাদের সিলেট দর্পণ  ২৪ পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে , আমাদেরকে আপনাদের পরামর্শ ও মতামত দিতে পারেন news@sylhetdorpon.com এই ই-মেইলে ।
শিরোনাম :
কানাইঘাট থেকে ইয়াবা সহ এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব বিয়ানীবাজারে সাড়ে ৩ কেজি গাঁজা সহ ২জনকে আটক করেছে থানা পুলিশ গোয়াইনঘাটে মা মেয়ে ছেলে সহ ৩ জনের গলাকাটা লাশ উদ্ধার জকিগঞ্জে মিলেছে গ্যাসের সন্ধান সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান- এর ১ম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে ওয়েব অব হিউম্যানিটি এল্যায়েন্স সিলেট এর শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ ও দোয়া মাহফিল ১৪ বছর পর ধর্ষণ মামলার এক পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ বাংলাদেশ ভারত সংস্কৃতি মৈত্রী ফ্রন্ট এর ভিডিও কনফারেন্স সভা সম্পন্ন হয়েছে মধ্যরাতে বিয়ানীবাজারে অটোরিকশার ধাক্কায় এক যুবক নিহত বিয়ানীবাজার থেকেই কিশোরী উদ্ধার,অপহরণকারী যুবক গ্রেফতার মাদক মামলার সাজা প্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ
খাসিয়া নয়, আকবরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ; বললেন এসপি ফরিদ উদ্দিন

খাসিয়া নয়, আকবরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ; বললেন এসপি ফরিদ উদ্দিন

দর্পণ ডেস্ক : সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন আহমদ দাবি করেছেন, ভারতীয় খাসিয়া নয়, পুলিশের কিছু ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মাধ্যমে আকবরকে সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (০৯ নভেম্বর) সকাল ৯টায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলেও জানান তিনি।

সন্ধ্যায় প্রেস কনফারেন্সে পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন আহমদ বলেন, গতকাল আমাদের কাছে একটি তথ্য ছিলো সে ভারতে পালিয়ে যাবে। তাই আমরা সীমান্তবর্তী এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি শুরু করেছিলাম। পরে আজ তাকে গ্রেপ্তার করি।

একটি ভিডিও দেখা গেছে যেখানে দেখা যায় ভারতের খাসিয়ারা তাকে আটক করেছে- এমন প্রশ্নে পুলিশ সুপার বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে কোন ভিডিও করা হয়নি। এ ভিডিও কে কোথায় করেছে তা আমাদের জানা নেই। এরকম কিছু দেখিনি। তবে তাকে জেলা পুলিশের কানাইঘাট থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

কেউ আটক করে হস্তান্তর করেছে কিনা- জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, কেউ হস্তান্তর করেনি। পুলিশের এসকল কাজে জনগণের সহযোগিতা নেই। তাকে গ্রেপ্তার করতে আমাদের কিছু বন্ধু সহযোগিতা করেছে।

প্রেস ব্রিফিং এ উপস্থিত ছিলেন সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহমেদ।

এদিকে প্রেস কনফারেন্স চলাকালে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের বাইরে বিক্ষুব্ধ জনতা ‘পুলিশ সুপারের ফাঁসি চাই, আকবরের ফাঁসি চাই’ বলে স্লোগান দিতে থাকে। দীর্ঘ সময় ধরে তাদের স্লোগান চলতে থাকে।

এর আগে বিকাল সাড়ে ৫টায় কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে কানাইঘাট থেকে আকবরকে সিলেটের পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়া হয়। তাই বিকাল থেকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের আশপাশ এলাকায় সিলেট জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

এদিকে আকবরকে সিলেটে নিয়ে আসার খবরে বিক্ষুব্ধ জনতার ঢল নামে সিলেটের কোর্ট পয়েন্ট এলাকাসহ পুলিশ সুপার কার্যালয় ও বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির আশপাশ এলাকায়।

এরও আগে গত রোববার গভীর রাতে ভারতের দনা সীমান্ত এলাকার খাসিয়াদের হেডম্যানরা রায়হান হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্ত এসআই আকবরকে আটক করে তাদের হেফাজতে রাখে।

পরে সোমবার দুপুর ১টার দিকে ভারতীয় খাসিয়ারা আকবরকে বাংলাদেশ সীমান্তে স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীসহ লোকজনদের কাছে বুঝিয়ে দেয়। এ ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে থানা পুলিশ ও জেলা পুলিশের একটি টিম তাকে জনতার কাছ থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এদিকে আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে র‍্যাবের হাতে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত রাহয়ানের মা সালমা বেগম। আকবকে গ্রেপ্তারের পর সোমবার বিকালে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ দাবি জানান।

সালমা বেগম বলেন, আকবরকে কিন্তু পুলিশ, পিবিআই কেউ গ্রেপ্তার করেনি। তাকে আটক করেছে জনগণ। এজন্য আমি জনগনকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। কারণ তারা বুঝতে পেরেছেন সন্তানহারা মায়ের আকুতি। তাই তারা আকবরকে আটক করেছেন। এখন আমার দাবি হচ্ছে, আকবরকে যেন পুলিশ, পিবিআই কারো কাছে হস্তান্তর না করে র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রতিক্রিয়ায় রায়হানের মা আরও বলেন, আজ এতোদিন পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবুও আমার মন কিছুটা শান্তি পেয়েছে। এজন্য মানুষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তারাই আকবরকে আটক করেছেন।

আকবরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে সালমা বেগম বলেন, আমার ছেলের শরীরে ১১১টি আঘাত। তাই আমি চাইব আকবরকেও যেন এমন শাস্তি দেয়া হয় যাতে বাংলার মানুষ দেখতে পারে। আর আমার রায়হানের আত্মাও শান্তি পায়, তাতে মা হিসেবে আমিও শান্তি পাব।

প্রসঙ্গত, গত ১১ অক্টোবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে গুরুতর আহত হন রায়হান। তাকে ওইদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন বন্দরবাজার ফাঁড়ির এএসআই আশেক এলাহীসহ পুলিশ সদস্যরা। সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান রায়হান।

ঘটনার পর পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল নগরীর কাস্টঘরে গণপিটুনিতে রায়হান নিহত হয়েছেন। তবে তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে প্রাণ হারান রায়হান।

এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি বাদী হয়ে সিলেট কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে সিলেট মহানগর পুলিশের তদন্ত কমিটি ঘটনার সত্যতা পেয়ে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবরসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করে। মামলাটিতে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে পিবিআই’র তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায়..

© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ সিলেট দর্পণ ।

কারিগরি সহায়তায়ঃ-ক্রিয়েটিভ জোন আইটি