বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১২:৪২ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তিঃ
আমাদের সিলেট দর্পণ  ২৪ পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে , আমাদেরকে আপনাদের পরামর্শ ও মতামত দিতে পারেন news@sylhetdorpon.com এই ই-মেইলে ।
শিরোনাম :
বিয়ানীবাজারে নামধারী ছাত্রলীগ ক্যাডার সালাউদ্দিন গ্রেফতার কানাইঘাটে কারেন্টে তারে লাগে দাদা-নাতির মৃত্যু চুনারুঘাটে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব ১২ বছর পর ধর্ষণ মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার করেছে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জানুয়ারিতে জেলা পরিষদ নির্বাচন দ্বিতীয় ধাপে ৮৪৮ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে চুনারুঘাটে ৮ ঘন্টার ব্যবধানে একই পরিবারে ৩ জনের মৃত্যু আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্ম দিন পালন করেছে বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগ মাদক বিরোধী অভিযানে জীবন উৎসর্গ করলেন পুলিশ কর্মকর্তা পিয়ারুল
সিলেটের হকার সমস্যার সমাধানে পুলিশ কমিশনারের সহায়তা চাইলেন মেয়র আরিফ

সিলেটের হকার সমস্যার সমাধানে পুলিশ কমিশনারের সহায়তা চাইলেন মেয়র আরিফ

দর্পণ ডেস্ক ; সিলেটের হকাররা আগের মতোই দখলে রেখেছে সিলেটের রাজপথ। ফুটপাথ দখল করে তারা আগের মতোই চালাচ্ছেন ব্যবসা। এই অবস্থায় সিলেটের হকার নিয়ে নতুন রাজনীতি শুরু হয়েছে। মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী হকার ইস্যু নিয়ে ক্লান্ত। এবার পুলিশ কমিশনারের সহযোগিতা চাইলেন। নিজেও আগের মতো আর হকার উচ্ছেদে সরব ভূমিকা পালন করছেন না। সিলেটে হকারদের সমস্যা অনেক পুরনো। প্রায় দুই যুগ ধরে সিলেটের ফুটপাথ দখল করে আছে হকাররা। বিশেষ করে নগরীর কীন ব্রিজের উত্তর অংশের মুখ থেকে শুরু করে জিন্দাবাজার এবং তালতলা থেকে শুরু করে ধোপাদিঘীর পাড় পর্যন্ত এলাকার ফুটপাথ হকারদের দখলে। কয়েক হাজার হকার এই ফুটপাথ দখল করে ব্যবসা করে যাচ্ছে। নির্বাচন এলেই ‘হকার উচ্ছেদ’ ইস্যু তৈরি হয়। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে ঘায়েল করেন হকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে। কিন্তু নির্বাচন গেলেই প্রতিশ্রুতি ভুলে যান জনপ্রতিনিধিরা। হকার উচ্ছেদের প্রতিশ্রুতি ছিল সাবেক মেয়র কামরানের। কিন্তু তিনি হকার উচ্ছেদে ব্যর্থ হন। বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ২০১৩ সাল থেকে সিলেটের নির্বাচিত মেয়র। কিন্তু তিনিও হকার উচ্ছেদ করতে পারেননি। কিংবা হকারদের পুনর্বাসনেরও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেননি। সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে হকার ইস্যুটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সিলেটের প্রধান প্রধান সড়ক বড় হচ্ছে। দুই লেনের রাস্তা করে গণপরিবহন চলাচলের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে নগরীর ফুটপাথ নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে সিলেটের ফুটপাথ ও সড়কে হকারদের অবস্থান আরো বেশি চোখে পড়ছে। পাশাপাশি নাগরিক সমস্যাও প্রকট আকার ধারণ করছে। কিন্তু হকার আগের মতোই রাস্তা ও ফুটপাথ দখল করে রয়েছে। মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী হকার উচ্ছেদে ঢাকঢোল পিটিয়ে অভিযান চালালেও কাজ হচ্ছে না। তার অভিযানের পরপরই হকাররা ফের সিটি করপোরেশনের সামনেসহ আশপাশ এলাকা দখলে নেয়।

সিলেটের ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আলহাজ মকন মিয়া জানিয়েছেন, সিলেটকে বলা হতো মার্কেটের শহর। এখন বলা হচ্ছে হকারদের শহর। হকারদের শহর পরিণত হওয়ার কারণে মার্কেটে ভ্যাট, ট্যাক্স দিয়ে যারা ব্যবসা করেন তারা অসহায় হয়ে পড়েছেন। মার্কেট থেকে ফুটপাথে বেচাবিক্রি বেশি হয়। এ কারণে সিলেটের ব্যবসায়ী সমাজের দাবি একটাই- হকারদের উচ্ছেদ করা। তিনি বলেন, হকার নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। ভোটের রাজনীতিতে হকাররা ‘ফ্যাক্টর’ হওয়ার কারণেই তারা উচ্ছেদ হয় না। কিংবা উচ্ছেদ করা হয় না। এদিকে সিলেটের হকাররা কয়েক শ্রেণির মানুষের কাছে লাভের উৎসে পরিণত হয়েছেন। জনপ্রতিনিধিরা হকারদের ভোট টানতে তাদের প্রতি কঠোর হন না। হকারদের কাছ থেকে দৈনিক লাখ টাকার উপরে চাঁদাবাজি করে পুলিশ ও তাদের এজেন্টরা। হকারদের কাছে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে ব্যবসা করছে রাজনৈতিক দলের কর্মীরা। এর বাইরে স্থানীয় মদতদাতা ও সন্ত্রাসীরা নিয়মিত চাঁদা আদায় করে থাকে। এ কারণে কয়েকটি পক্ষ থেকে শেল্টার নিয়েই সিলেটের হকাররা ফুটপাথ ও রাজপথ দখল করে ব্যবসা করছে। ফলে তাদের কখনোই উচ্ছেদ করা হয়নি। সিলেট মহানগর হকার ঐক্য পরিষদের নেতারা জানিয়েছেন, হকার পরবর্তী সময়ে সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী প্রথমে বিকাল ২টা এবং পরে বিকাল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ফুটপাথে হকারদের বসার অনুমতি দিয়েছিলেন। এ কারণে হকাররা ফুটপাথে বসে ব্যবসা করছিলেন। সপ্তাহখানেক মেয়র নিজে অভিযান চালিয়ে হকারদের মালামাল আটক করে সিটি করপোরেশনে নিয়ে যান। এরপর হকাররা মালামাল আনতে গেলে দেয়া হয়নি। এসব মালামাল কর্মচারীরা লুটেপুটে নিয়ে গেছে। তারা জানান, হকারদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করে সর্বস্তরের হকার ঐক্য পরিষদ গঠন করা হয়েছে। এ পরিষদের হকাররা ফুটপাথ দখল করে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করলেও তাদের বাধা দেয়া হচ্ছে না। সাম্প্রতিক সময়ে কল্যাণ পরিষদের নেতাদের বাধা দেয়া হচ্ছে। এ কারণে বুধবার কল্যাণ পরিষদের নেতারা পুনর্বাসনের দাবিতে সিলেটের জেলা প্রশাসক, পুলিশ কমিশনার ও মেয়রের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, নগরীর লালদীঘিরপাড়ে ভাসমান হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করলে আর কোনো সমস্যা হবে না। হকাররা ফুটপাথ ছেড়ে চলে যাবে। কিন্তু প্রতিশ্রুতি দিয়েও লালদীঘিরপাড়ে পুনর্বাসন করা হচ্ছে না। সম্প্রতি হকারদের নিয়ে চলমান ঘটনাবলীর আলোকে মঙ্গলবার রাতে সিলেট চেম্বারের উদ্যোগে মতবিনিময় সভা হয়। এ সভায় সিলেটের হকার উচ্ছেদ করে পুনর্বাসন করতে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে অনুরোধ জানানো হয়। হকারদের উচ্ছেদ করতে তারও সহযোগিতা কামনা করেন ব্যবসায়ী নেতারা। এদিকে হকার উচ্ছেদ করতে সিলেটের নবাগত পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফের সহযোগিতা কামনা করেছেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

গতকাল দুপুরে সিলেট চেম্বারের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, হকারদের উচ্ছেদ করতে তিনি নবাগত পুলিশ কমিশনারের সহযোগিতা কামনা করেছেন। এ জন্য পুলিশ কমিশনার কিছু সময় নিয়েছেন। বিষয়টি তিনি দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন জানিয়েছেন, নবাগত পুলিশ কমিশনারের কাছে সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি দাবি করা হয়েছে। এদিকে সিলেট মহানগর হকার ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মো. রকিব আলী অভিযোগ করেছেন, আমরা তো ফুটপাথে বসতে চাই না। আমরা পুনর্বাসন চাই। কিন্তু আরেকটি হকার সংগঠন গঠন করা হয়েছে। সেই সংগঠনের নেতাকর্মীরা ফুটপাথে বসে ব্যবসা করলেও তাদের মালামাল নেয়া হয় না। বরং তাদের শেল্টার দেয়া হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায়..

© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ সিলেট দর্পণ ।

কারিগরি সহায়তায়ঃ-ক্রিয়েটিভ জোন আইটি