বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তিঃ
আমাদের সিলেট দর্পণ  ২৪ পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে , আমাদেরকে আপনাদের পরামর্শ ও মতামত দিতে পারেন news@sylhetdorpon.com এই ই-মেইলে ।
শিরোনাম :
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ‘পুলিশের ধাওয়ায়’ সিএনজি খাদে পড়ে চালক নিহত, মহাসড়ক অবরোধ সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ অলিউরের চিকিৎসার জন্য বিদেশযাত্রা : সবার দোয়া কামনা তামিমার থেকে ১০ লাখ টাকা নেন নাসির, তারপর বিয়ে করেন প্রকাশ্যে মওদুদ হত্যা : এখনও গ্রেফতার নেই, সিলেটের রাজপথে ব্যাংকাররা হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরি সিলেটে প্রেমের ফাঁদে ফেলে শারীরিক সম্পর্ক, ভিডিও ধারণ করে প্রতারণা জগন্নাথপুরে শিশুর ‘আত্মহত্যার চেষ্টা’ ভারতে ভুয়া পাসপোর্ট তৈরি চক্রের ৪ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার মৌলভীবাজারে বিদেশী মদ, ইয়াবা গাড়ী ও ৩টি চোরাই গাড়ি উদ্ধার : ৪ জন আটক কমলগঞ্জে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে বিদেশি মদসহ আটক ১
বয়স্ক বাবাকে ঘর থেকে বের করে দিল সন্তান

বয়স্ক বাবাকে ঘর থেকে বের করে দিল সন্তান

দর্পণ ডেস্ক : কক্সবাজার শহরের পশ্চিম বাহারছড়ায় বৃদ্ধ বাবাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে একমাত্র সন্তান। অসুস্থ বৃদ্ধ বাবা নাতিদের কাছে থাকতে চাইলেও একমাত্র সন্তান পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছেন ওই ঘরে তার আর ঠাঁই হবে না।

নিজের জায়গা-সম্পতি থেকে বঞ্চিত করে সন্তান ঘর থেকে বের করে দেয়ায় অসুস্থ বৃদ্ধ বাবার কাটছে মানবেতর দিন।

জানা যায়, মোহাম্মদ আব্দুস সালামকে ৩ বছর আগে ঘর থেকে বের করে দেন তার একমাত্র সন্তান নজির আহম্মদ। বৃদ্ধের বাড়ি শহরের পশ্চিম বাহারছড়াস্থ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পেছনে। ওই বাড়ি থেকে বাবাকে বের করে দিয়ে নজির আহম্মদ স্ত্রী-পুত্র নিয়ে নিজেই অবস্থান করছেন।

এক সময়ের সফল কৃষক আব্দুস সালামের গায়ে এখন আর জোর না থাকায় কোনো কাজ করতে পারেন না। তিনি পরিচিত জনদের কাছ থেকে ১০-২০ টাকা নিয়ে খাবার খান। আর বিভিন্ন লোকজনের ঘরের বারান্দায় কোনোভাবে রাত্রি যাপন করছেন।

বৃদ্ধ মোহাম্মদ আব্দুস সালামের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, কৃষি কাজ নিয়ে তার সফল জীবন ব্যবস্থা ছিল। তার স্ত্রী মারা গেছেন ২৫ বছর আগে। একমাত্র ছেলে নজির আহম্মদ। নিজে লেখাপড়া না করলেও সন্তানকে প্রাইমারিতে পড়িয়েছেন। সন্তানকে সুখী রাখতে জীবনে অনেক কষ্ট করেছেন। কষ্টে উর্পাজিত টাকা দিয়ে পরিবারের জন্য ওই জায়গা ক্রয় করেছিলেন।

সব ঠিকঠাক থাকলেও পেশায় রাজমিস্ত্রী সন্তান নজির আহম্মদ বিয়ের পর থেকে বদলাতে শুরু করেন। ছোট-খাট বিষয়ে একাধিকবার বাবার গায়ে হাত পর্যন্ত তুলেন। সন্তান ও ছেলের বউ কোনোভাবেই তাকে সহ্য করছিলেন না। ঠিকমত খাবার দেয়নি। নাতিদের কাছ থেকেও দূরে রাখতেন। ঠিকমত থাকতে-ঘুমাতে দিতেন না। এসব কষ্ট সহ্য করতে না পেরে নিজেই একবার অভিমান করে ঘর থেকে বের হয়ে যান।

এরই মধ্যে নজির আহম্মদ কৌশল করে বৃদ্ধ বাবার কাছ থেকে স্টাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে ওই জায়গা নিজের করে নেন। আর তার বাবাকে কয়েক দফায় কিছু টাকা ধরিয়ে দেন।

৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়ে বাবাকে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। ওই ঘরে নাকি তার বাবার আর কোনো অধিকার নেই। বৃদ্ধ বাবাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যাচার করতেন। পরে তাকে ওইঘর থেকে বের করে দেয়া হয়। আর বলা হয় মাঝে মধ্যে এসে যোগাযোগ করতে। কিন্তু ওখানে স্থায়ীভাবে থাকা যাবে না।

বৃদ্ধ অনেক বার নিজের ঘরে যেতে চেয়েছেন কিন্তু সন্তান সেই সুযোগ দেননি। বর্তমানে তিনি অসুস্থ। তার চাওয়া শান্তিতে দু’বেলা খেয়ে মৃত্যুর জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়। বর্তমানে আব্দুর সালাম পশ্চিম বাহারছড়াস্থ কবিতা চত্বর সংলগ্ন শহিদুল্লাহ্ নামে এক দিন মজুরের ঝুপড়ি ঘরের বারান্দায় ভাড়া করে রাত্রি যাপনের জন্য আশ্রয় পেয়েছেন।

দিনমজুর শহিদ উল্লাহ জানান, কর্মক্ষম আব্দুর সালাম এক সময় সফল কৃষক ছিলেন। যে সন্তানের জন্য তিনি অনেক কষ্ট করেছেন সেই সন্তানই আজ তাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন। তার খেতে-পড়তে খুব কষ্ট হওয়ার দৃশ্য দেখে মায়া লাগে।

আব্দুর রশিদ নামে অপর এক ব্যক্তি জানান, এমন সন্তান যেন কারো ঘরে জন্ম না হয়। যে সন্তান নিজের বাবাকে ঘর থেকে বের করে দেয় তার চেয়ে খারাপ মানুষ আর হয় না। সবচেয়ে বেশি অমানবিক বিষয় হল, সন্তানদের নিয়ে সুখে থাকার জন্য যে বাবা জায়গা কিনেছেন। সে জায়গা কৌশলে সন্তান নিজের করে নিয়ে বাবাকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। যা খুবই দুঃখজনক।

নজীর আহম্মদের স্ত্রী জানান, শশুরকে ঘরে রাখতে চান। কিন্তু ওই ঘর ছোট তাই রাখতে পারছেন না। এছাড়া ওই জায়গা এখন তার স্বামীর। এতে শ্বশুরের কোনো অধিকার নেই।

নজির আহম্মদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার বাবার দেয়া সব অভিযোগ সত্য নয়। তার বাবাকে সহযোগিতা করতে চান কিন্তু তার বাবা ঘরে আসতে চায় না। এছাড়া ওই জায়গা এখন তার বাবার নয়। ওই জায়গার মালিক তিনি নিজেই।

তিনি আরো জানান, এই মুহূর্তে তাদের ঘর ছোট। যখন দ্বিতীয় তলা করা হবে তখন তিনি নিয়ে আসবেন। এর আগে কোনোভাবেই তার বাবাকে ঘরে আনতে পারবেন না। প্রয়োজনে বাবা চাইলে কোনো ঝুপড়ি ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতে পারেন। বড়জোর ভাড়ার টাকায় সহযোগিতা করতে পারবেন কিন্তু কোনো হাত খরচ দিতে পারবেন না।

নিউজটি শেয়ার করুন আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায়..

© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ সিলেট দর্পণ ।

কারিগরি সহায়তায়ঃ-ক্রিয়েটিভ জোন আইটি