মঙ্গলবার, ২৭ Jul ২০২১, ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তিঃ
আমাদের সিলেট দর্পণ  ২৪ পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে , আমাদেরকে আপনাদের পরামর্শ ও মতামত দিতে পারেন news@sylhetdorpon.com এই ই-মেইলে ।
শিরোনাম :
লিবিয়ায় হাসপাতালের আইসিইউতে এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু পবিত্র মক্কায় গলায় ফাঁস দিয়ে এক বাংলাদেশির আত্মহত্যা বিয়ানীবাজারে গ্রামপুলিশ কর্তৃক এএসআই রতন মিয়ার বিদায় সংবর্ধনা সিলেট -৩ আসনের উপনির্বাচন স্থগিত আগামী বছরের শুরুতে মিলবে ২১ কোটি ডোজ টিকা যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ানীবাজারের এক যুবকের আকষ্মিক মৃত্যু জকিগঞ্জে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসারের মৃত্যু, বাদ আসর জানাজা দুবাগ স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া স্মরণে ভার্চুয়াল আলোচনা ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন মাইকে ঘোষণা দিয়ে বিয়ানীবাজারের দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত অর্ধ শতাধিক ফকির আলমগীর আর আমাদের মাঝে নেই
তহমিনাকে আর টাকার জন্য গর্ভের সন্তান বিক্রি করতে হল না

তহমিনাকে আর টাকার জন্য গর্ভের সন্তান বিক্রি করতে হল না

দর্পণ ডেস্ক : অন্তঃসত্ত্বা তহমিনা খাতুনকে ফেলে চলে গেছে স্বামী। নিরুপায় হয়ে বাবার বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌর এলাকার আড়পাড়ায় এসে থাকা শুরু করেন তিনি; সঙ্গে ৬ বছর বয়সী মেয়ে।

এদিকে তহমিনার অসুস্থ বাবা আব্দুল মালেকও চার বছর ধরে শয্যাশায়ী। বৃদ্ধ মা শিশুদের কাপড় নিয়ে গ্রাম গ্রাম ঘুরে বিক্রি করেন। এভাবে তিনি যা রোজগার করেন তা দিয়েই অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটে তাদের।

এমন অভাবের সংসারে গর্ভের সন্তানের জন্মের জন্য তহমিনার সিজার করা জরুরি হয়ে পড়ে। কিন্তু কাছে একটি টাকাও নেই। বাধ্য হয়ে টাকার জন্য শ্বশুরের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন তহমিনা। টাকা দেওয়া দূরে থাক, উল্টো তহমিনার গর্ভের সন্তান বিক্রি করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি। উপায়ান্তর না পেয়ে এতে রাজি হয়ে যান তহমিনা। কিন্তু গর্ভের সন্তান বলে কথা। বুকের ধনকে টাকার জন্য আরেকজনকে দিয়ে দিতে হবে- মেনে নিতে না পেরে কালীগঞ্জ প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান তিনি।

এগিয়ে আসেন স্থানীয় সাংবাদিকরা; আশ্বাস দেন ব্যয়ভার বহনের। পরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তহমিনার যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে গত সোমবার কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারের মাধ্যমে পুত্রসন্তান জন্ম দেন তিনি। এতে ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের স্থানীয় সংগঠন ‘ফারিয়া’ ওষুধ দিয়ে সহযোগিতা করছে। এগিয়ে এসেছেন চিকিৎসকরাও।

তহমিনা জানান, ৯ বছর আগে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার পাঠামারা গ্রামের রবিউল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তার গর্ভের সন্তানের বয়স দুই মাস হলে স্বামী অন্য মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক করে তাকে ফেলে চলে যায়। তহমিনার মা আম্বিয়া বেগম এই দুঃসময়ে পাশে এসে দাঁড়ানোয় স্থানীয় সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান।

কালীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হোসেন বলেন, আমরা যা করেছি তা সমাজের একজন মানুষ হিসেবে মানুষের জন্য।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. এমএ কাফি জানান, সিজারের পর মা ও শিশু দু’জনই ভালো আছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায়..

© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ সিলেট দর্পণ ।

কারিগরি সহায়তায়ঃ-ক্রিয়েটিভ জোন আইটি