বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তিঃ
আমাদের সিলেট দর্পণ  ২৪ পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে , আমাদেরকে আপনাদের পরামর্শ ও মতামত দিতে পারেন news@sylhetdorpon.com এই ই-মেইলে ।
শিরোনাম :
গোলাপগঞ্জে পল্লীবিদ্যুৎ কর্মীর বিদ্যুৎ স্পর্শে মৃত্যু বিয়ানীবাজারে নামধারী ছাত্রলীগ ক্যাডার সালাউদ্দিন গ্রেফতার কানাইঘাটে কারেন্টে তারে লাগে দাদা-নাতির মৃত্যু চুনারুঘাটে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব ১২ বছর পর ধর্ষণ মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার করেছে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জানুয়ারিতে জেলা পরিষদ নির্বাচন দ্বিতীয় ধাপে ৮৪৮ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে চুনারুঘাটে ৮ ঘন্টার ব্যবধানে একই পরিবারে ৩ জনের মৃত্যু আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্ম দিন পালন করেছে বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগ
গ্রাম্য শালিশে ১ মোরগের দাম ২০ হাজার টাকা

গ্রাম্য শালিশে ১ মোরগের দাম ২০ হাজার টাকা

দর্পণ ডেস্ক : বাজারে একটি মুরগির দাম সর্বোচ্চ কতো হতে পারে? দেড় হাজার কিংবা দুই হাজার সর্বোচ্চ হতে পারে। কিন্তু কখনো কি শুনেছেন যে একটি মোরগের দাম ২০ হাজার টাকা! চোখ কপালে উঠার মতো প্রশ্ন। তবে ঘটনা কিন্ত সত্যি। ঘরে ঢুকে মলত্যাগ করায় মোরগ জবাই করে খাওয়ার দায়ে একটি মুরগির দাম ২০ হাজার টাকা ধরা হয়েছে।

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার দপ্তিয়ার ইউনিয়নের ভুগোলহাট গ্রামের আব্দুল হালিমকে গ্রাম্য সালিশে এমন অদ্ভুত জরিমানা করেছে স্থানীয় মাতবররা। যা রীতিমতো আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। হয়রানি থেকে রেহাই পেতে ২১ সেপ্টেম্বর এ ব্যাপারে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন তিনি।

মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট ভুগোলহাট গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক বাবুর একটি মোরগ প্রতিবেশী আব্দুল হালিমের ঘরে ঢুকে তার কলেজ পড়ুয়া ছেলে মো. রাকিবের পড়ার টেবিলে মলত্যাগ করে। এসময় রাকিব মোরগটিকে লক্ষ্য করে ঢিল ছুড়লে মোরগটি আহত হয়।

পরে মোরগটি মরে যেতে পারে এ কথা ভেবে দ্রুত সেটি জবাই করেন তিনি। পরে মোরগের মালিক আব্দুর রাজ্জাক বাবুকে ডেকে জবাই করা মোরগটি দিতে গেলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।

পরে আব্দুর রাজ্জাক বাবু সপরিবারে মোরগটি রান্না করে খেলেও পরবর্তীতে এ নিয়ে আব্দুর রাজ্জাক বাবু স্থানীয় মাতবরদের কাছে মোরগ হত্যার বিচার চান। পরে গত ২৮ আগস্ট এলাকার মাতবররা স্থানীয় আব্দুস সাত্তারের বাড়িতে আব্দুল কুদ্দুস মিয়ার সভাপতিত্বে সালিশ বৈঠকে বসেন। সালিশে নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে একটি মোরগের জন্য ২০ হাজার টাকা করা হয় এবং রাবিককে দেওয়া শারীরিক শাস্তি দেওয়া হয়।
ওই সালিশে অনেকের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আব্দুল হাই, ফজলু শেখ, মো. কফিল উদ্দিন ও জয়েদ আলী। ফজলু শেখ, আব্দুস সামাদ, শামীম, কোরবান আলী ও আব্দুল মোতালেবের সিদ্ধান্তে এ দণ্ড দেওয়া হয়। সালিশে রাকিবের বাবা আব্দুল হালিম নিরুপায় হয়ে নগদ পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে মাতব্বরদের কাছে ক্ষমা চান। কিন্তু প্রভাবশালী মাতব্বররা ক্ষমা না করে বাকি টাকার জন্য তারিখ দেন। মাতব্বরদের চাপের কারণে কোনো উপায় না থাকায় গত ৪ সেপ্টেম্বর ধার দেনা করে আরও তিন হাজার টাকা জয়েদ আলী ও আব্দুল কুদ্দুসের হাতে দেন। এসময় বাকী টাকার জন্য আব্দুল হালিম তাদের কাছে ক্ষমা চান। মোট আট হাজার টাকা পেয়েও সন্তুষ্ট হননি মাতব্বররা। বাকি ১২ হাজার টাকার জন্য আব্দুল হালিমের পরিবারকে ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেন তারা। কোনো উপায় না পেয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন আব্দুল হালিম।

এদিকে মোরগের মালিক আব্দুর রাজ্জাক বাবু জানান, দুই দফায় জরিমানার আট হাজার টাকা তিনি পেয়েছেন। বাকি ১২ হাজার টাকা জন্য মাতব্বররা বা তিনি আব্দুল হালিমের পরিবারকে কোনো চাপ দেননি।
ভুক্তভোগী আব্দুল হালিম বলেন, ছেলে ভুল করে প্রতিবেশী আব্দুর রাজ্জাকের মোরগটিকে আঘাত করে এবং জবাই করে। পরে আমি মালিককে ডেকে এনে তার মোরগটি বুঝিয়ে দিয়েছি। পরে মোরগের মালিক আমার ছেলের বিরুদ্ধে মাতবদের কাছে বিচার চান। বিচারে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে আমার ছেলেকে শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়া হয়। দুই দফায় আট হাজার টাকা দিয়ে ক্ষমা চেয়েছি। তারপরও রেহাই পাইনি। বাকি টাকার জন্য আমাকে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে মামলা করেছি।

নিউজটি শেয়ার করুন আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায়..

© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ সিলেট দর্পণ ।

কারিগরি সহায়তায়ঃ-ক্রিয়েটিভ জোন আইটি