রবিবার, ২৫ Jul ২০২১, ০৬:৫০ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তিঃ
আমাদের সিলেট দর্পণ  ২৪ পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে , আমাদেরকে আপনাদের পরামর্শ ও মতামত দিতে পারেন news@sylhetdorpon.com এই ই-মেইলে ।
শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ানীবাজারের এক যুবকের আকষ্মিক মৃত্যু জকিগঞ্জে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসারের মৃত্যু, বাদ আসর জানাজা দুবাগ স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া স্মরণে ভার্চুয়াল আলোচনা ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন মাইকে ঘোষণা দিয়ে বিয়ানীবাজারের দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত অর্ধ শতাধিক ফকির আলমগীর আর আমাদের মাঝে নেই গোয়াইনঘাটে র‍্যাবের অভিযানে ৪৮৩ বোতল ফেন্সিডিল সহ এক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার কঠোর লকডাউনে থাকবে যেসব বিধিনিষেধ বিয়ানীবাজারে করোনায় মারা গেলেন এক স্কুল শিক্ষিকা জকিগঞ্জের শাহগলীতে বিদ্যুৎষ্পষ্ট হয়ে এক কিশোরের মৃত্যু করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ও সুবক্তা হাফিজ মৌলানা লুৎফুর রহমান নজিবী
গ্রীসে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হবিগঞ্জের দুই যুবক, লাশের অপেক্ষায় পরিবার

গ্রীসে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হবিগঞ্জের দুই যুবক, লাশের অপেক্ষায় পরিবার

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি : ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন সবসময় টানতো শাহীনকে। কিন্তু কে জানত এই স্বপ্নের দেশে গিয়ে আততায়ীর গুলিতে মরতে হবে তাকে। তারপরও যে যেতে হবে স্বপ্নের দেশ ইউরোপে। পূরণ করতে হবে স্বজনদের চাহিদা।

এমন বিশ্বাস নিয়ে দশ বছর আগে স্থলপথে গ্রীস পাড়ি জমিয়েছিলেন হবিগঞ্জে নবীগঞ্জ উপজেলার কামড়াখাই গ্রামের আব্দুল মমিন (৪০)। চার বছর আগে একইভাবে সেখানে গিয়েছিলেন একই গ্রামের শাহীন মিয়াও (২২)।

গত সোমবার গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের আসপোগিরগো এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে মারা যান এ দু’জন। দেশে খবর এলে দু’টি পরিবারে পড়ে কান্নার রোল। ভেঙ্গে গেছে তাদের সকল আশা, সকল স্বপ্ন। এখন শুধু মরদেহগুলো একনজর দেখার দুরাশায় মগ্ন তারা।

বুধবার বিকেলে শাহীনের বাড়িতে দেখা গেল এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। ঘরের এক কোনে ছেলের ছবি হাতে বসে আছেন বাবা নূর হোসেন। বিছানায় বসে কান্না করছিলেন মা। বলছিলেন, আমার ছেলে ইউরোপে যাওয়ার জন্য পাগল ছিল। এই স্বপ্নই তার কাল হবে জানলে, যেতে দিতাম না। কান্নাজড়িত কণ্ঠে ছেলের মরদেহটি দেশে এনে দিতে সরকারের নিকট দাবি জানাচ্ছিলেন তিনি।

একইদিন নিহত আব্দুল মমিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মারা যাওয়ার খবর শুনে ভেঙ্গে পড়েছেন স্ত্রী ও তিন সন্তান। আত্মীয়-স্বজন দেখতে এলেও কারো সাথে কথা বলতে পারছেন না তারা। ১২ বছর বয়সী সন্তান রায়হান বার বার চিৎকার দিয়ে উঠছিল, ‘ও আল্লাহ গো, তুমি আমার বাপরে আইনিয়া দেউ গো’ বলে। হাউমাউ করে কান্না করছিলেন মমিনের স্ত্রীও।

নিহতদের নিকটাত্মীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ রফিক জানান, শাহীন ও মমিনের পরিবার অর্থনৈতিকভাবে অতটা সবল না। গ্রীস থেকে পাঠানো উপার্জনের মাধ্যমেই দু’টি সংসার চলতো। ছোটদের লেখাপড়ার খরচ বহন হতো। এরা দু’জন মারা যাওয়ায় দু’টি পরিবার চালানোর মতো আর কেউ রইলো না।

গুলিতে নিহত মমিনের মা বলেন, অনেক আশা নিয়ে আমার ছেলে বিদেশে গেলেও তাকে গুলি করে মারা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই। পাশাপাশি শেষবারের মতো একনজর ছেলের মরদেহ দেখার সুযোগ করে দেয়ার দাবিও জানিয়েছেন তিনি সরকারের প্রতি।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা গেছে, মমিন ও শাহিনের মরদেহ গ্রীসে বাঙালি কমিউনিটি লিডারদের জিম্মায় রয়েছে। দেশে পাঠানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায়..

© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ সিলেট দর্পণ ।

কারিগরি সহায়তায়ঃ-ক্রিয়েটিভ জোন আইটি