বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১, ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তিঃ
আমাদের সিলেট দর্পণ  ২৪ পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে , আমাদেরকে আপনাদের পরামর্শ ও মতামত দিতে পারেন news@sylhetdorpon.com এই ই-মেইলে ।
নবীগঞ্জে মুকুল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিডির চাল আত্মসাতের লিখিত অভিযােগ

নবীগঞ্জে মুকুল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিডির চাল আত্মসাতের লিখিত অভিযােগ

মোঃ তাজুল ইসলাম,নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) থেকেঃঃ নবীগঞ্জে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর আওতায় হত দরিদ্রদের বরাদ্দকৃত ১০ টাকা কেজির চাল আত্মসাতের ঘটনার পর এবার গজনাইপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুলের বিরুদ্ধে ভিজিডির চাল আত্মসাতের অভিযাগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দুই মহিলা হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযােগ দায়ের করেন। এ খবর নিশ্চিত করেন হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান। ঘটনা খতিয়ে দেখার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আলােচিত ইউপি চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুল নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি।

লিখিত অভিযাগে স্থানীয় সূত্রে জানায়, নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুল প্রায় দেড় বছর ধরে ভিজিডির সুবিধাভােগী দুই নারীর নাম বরাদ্দকৃত (প্রতিমাস ৩০ কজি) ভিজিডির চাল আত্মসাত করে আসছেন।

জানা যায়, ওই ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামের শাহেলা আক্তার সালমা ও সালেহা বেগম প্রায় দেড়বছর পূর্বে ভিজিডির চালের তালিকায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুলের কাছে ছবি ও ভােটের আইডি কার্ড দেন।

এ সময় চেয়ারম্যান তাদেরকে বলেন, তালিকাটি অনুমােদন হয়ে আসলে তারা চাল পাবে। চেয়ারম্যানের এমন আশ্বাসে আনন্দিত হন দরিদ্র পরিবারের এ দুই নারী। এরপর তালিকাভুক্তদের চাল বিতরণ শুরুর খবর পেয়ে চেয়ারম্যানের নিকট যান। চেয়ারম্যান মুকুল তাদেরকে অপেক্ষা করতে বলেন।

অনেকদিন অতিবাহিত হলে দুই নারী চালের জন্য চেয়ারম্যানর সাথে যােগাযােগ করেন। একপর্যায়ে চেয়ারম্যান মুকুল তাদেরকে বলেন, তাদের নাম তালিকায় উঠেনি, তাদেরকে চাল দেয়া যাবেনা।
সুবিধাবঞ্চিত এই দুই নারী বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে তারা জানতে পারে তালিকায় তাদের নাম রয়েছে। তাদের নাম বরাদ্দকৃত চাল উত্তােলন করে আত্মসাৎ করছেন চেয়ারম্যান মুকুল। পরে গজনাইপুর ইউনিয়নের ভিজিডির তালিকা সংগ্রহ করে দেখা যায়, তালিকায় ক্রমিক নং ৫২ত শাহেলা আক্তার সালমা ও ৫৬ নম্বর সালেহা বেগম নাম রয়েছে। স্বামীর নাম, গ্রামসহ সব মিলিয়ে দেখা যায় তাদের নাম আসা সরকারী চাল আত্মসাৎ হয়েছে। বর্তমান করােনা ভাইরাস পরিস্তিতির মধ্যে অসহায় অবস্তায় পরিবার নিয়ে না খেয়ে অনাহারে দিন কাটছে তাদের। এমন অভিযােগ তুলে ভুক্তভােগী দুই নারী মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হাজির হয়ে লিখিত অভিযাগ দেন।
উল্লেখ্য, গজনাইপুর ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজির চাল নিয়ে তেলেসমাতির ঘটনায় ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি তদন্ত শুরু করেছে। এরই মধ্যে নতুনভাবে ভিজিডির চাল আত্মসাতের অভিযােগ নিয়ে তুমুল সমালােচনার ঝড় উঠেছে।

এ প্রসঙ্গে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান বলেন, গজনাইপুর ইউনিয়ন বিভিন অনিয়ম নিয়ে তদন্ত হচ্ছে, এই অভিযােগটি পেয়েছি অবশ্যই তদন্তপূবর্ক প্রয়াজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায়..

© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ সিলেট দর্পণ ।

কারিগরি সহায়তায়ঃ-ক্রিয়েটিভ জোন আইটি