শুক্রবার, ৩০ Jul ২০২১, ০৮:০০ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তিঃ
আমাদের সিলেট দর্পণ  ২৪ পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে , আমাদেরকে আপনাদের পরামর্শ ও মতামত দিতে পারেন news@sylhetdorpon.com এই ই-মেইলে ।
শিরোনাম :
আলোচিত হেলেনা জাহাঙ্গীরের গুলশানের বাসায় অভিযান চালাচ্ছে র‍্যাব গোয়াইনঘাটে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে যুবকের গলাকাটা লাশ,চারজনকে আসামি করে থানায় মামলা আমেরিকা প্রবাসী নারী সেজে প্রতারণা, প্রতারককে শেখঘাট থেকে আটক করেছে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ করোনায় মারা গেলেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট সানিয়া আক্তার দেশে ফিরা ৫ লাখ প্রবাসী পাবেন সাড়ে ১৩ হাজার টাকা করে অনুদান বিয়ানীবাজার উপজেলা যুবলীগ নেতার পিতৃবিয়োগ,বিভিন্ন মহলের শোক ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮৯২ সিলেন্ডার অক্সিজেন প্রদান করেছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী জয়ের জন্য ভালোবাসা – ড.সেলিম মাহমুদ লিবিয়ায় হাসপাতালের আইসিইউতে এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু পবিত্র মক্কায় গলায় ফাঁস দিয়ে এক বাংলাদেশির আত্মহত্যা
প্রেমে পড়ে নিখোঁজ হয়েছিল গৃহবধূ তামান্না; এযেন এক সিনেমার কাহিনী

প্রেমে পড়ে নিখোঁজ হয়েছিল গৃহবধূ তামান্না; এযেন এক সিনেমার কাহিনী

দর্পণ ডেক্স : গৃহবধূ তামান্না নিখোঁজ হয়েছিল প্রেমে পড়ে।অবিনব এক প্রেম কাহিনী নিয়েই উদ্ধার হলেন জকিগঞ্জের নিখোজ হওয়া প্রবাসীর স্ত্রী তামান্না আক্তার।

তিনি পরিবার পরিজনকে চরম দুশ্চিন্তায় ফেলে নিজের সাজানো নাঠকে ৬ দিন ছিলেন নিখোঁজ। বাবার বাড়ি,স্বামীর বাড়ির স্বজনদের অস্থিরতার অবসান ঘটে শুক্রবার সন্ধ্যায়।জকিগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে জকিগঞ্জের আটগ্রাম থেকে উদ্ধার করে। এক ওমান প্রবাসীর গৃহবধু তামান্না উদ্ধার হলে স্বস্থির নিঃশ্বাস এলেও শুরু হয় এক ত্রিমুখী জটিলতার।তামান্নার প্রেমের কৃষ্ণলীলায় স্বজনরা দিশাহারা।

চলচ্চিত্রের মত অবিকল কাহিনীকে উপজীব্য করে নিখোজ হওয়া তামান্না আক্তার জকিগঞ্জ উপজেলার আট গ্রামের ওমান প্রবাসী শফিকুর রহমানের স্ত্রী। ২০১৬ সালে শফিক ও তামান্না আক্তারের পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছু দিন পর শফিক স্ত্রী তামান্না আক্তারকে নিজ বাড়িতে রেখে ওমানে চলে যান। পারিবারিক ভাবে তাদের মধ্যে সম্পর্কে কোন ফারাক ছিলোনা। বরং তাদের মধ্যে অতি মধুর সম্পর্ক ছিলো।তারা দুজন দুজনার ছিল।

জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে মোবাইলে ইমোর মাধ্যমে যোগাযোগ হয় জকিগঞ্জের কামালপুর গ্রামের দুবাই প্রবাসি আসাদ উদ্দিনের সঙ্গে। পরিবারের অগোচরে দু’জনের নিয়মিত কথা হতো। যার ফলে এক পর্যায় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

তামান্না আক্তারের বাড়ি জকিগঞ্জে হলেও তিনি গোলাপগঞ্জ চৌমুহনীর এস এস ফার্মেসিতে এসে নিয়মিত ডাক্তার দেখাতেন। প্রতি বারের মতো ছোট ভাই মিজানুর রহমান মিজানকে নিয়ে গত রোববার দুপুরে গোলাপগঞ্জ আসেন তামান্না আক্তার। ফার্মেসির সামনে বোন তামান্নাকে রেখে পানি আনতে যান মিজান। একটু পর ফিরে এসে দেখেন তার বোন নেই। আশেপাশে খোজে পাওয়া যায়নি এমনকি কোথায় গেছে কেউ বলতে পারে না। তখন বিষয়টি তার পরিবারকে জানান। পরের দিন গোলাপগঞ্জ থানায় এসে বোন তামান্নাকে হারানোর বিষয় সাধারণ ডায়েরি করেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছিলো। গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশের পাশাপাশি জকিগঞ্জ থানা পুলিশও নিখোজ তামান্নাকে উদ্ধারে তৎপতা শুরু করে। তামান্নার এমন নিখোজ হওয়ার ঘটনায় উভয় পরিবারের মধ্যে দুশ্চিন্তা দেখা দেয়।

শুক্রবার বিকালে দুবাই প্রবাসী প্রেমিক আসাদের দুই জন আত্মীয় পিতার বাড়ি মানিকপুরে নিয়ে যাচ্ছিলেন তামান্নাকে। এ সময় জকিগঞ্জ থানা পুলিশ রতনগঞ্জের নিকটবর্তী এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে। রাতে নিয়ে যাওয়া হয় জকিগঞ্জ থানায়। উদ্ধারের পর তাকে নিয়ে শুরু হয় নতুন এক প্রেম যাত্রার কাহিনী। তামান্না পুলিশের কাছে নিখোজের সম্পূর্ণ ঘটনা খোলে বলে।

তামান্না  আরো বলেন, প্রায় ৩ বছর আগে দুবাইয়ে থাকা আসাদের সঙ্গে ইমোতে তার প্রথম পরিচয় হয়। এরপর থেকে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। দুজনে নিয়মিত ফোনে কথা হত। আসাদ নিজেও একজন বিবাহিত। বাড়িতে তার স্ত্রী আছে। আসাদ তাকে বলেছে স্ত্রীর সঙ্গে তার বনিবনাওত নেই। সে দেশে এসে স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়ে আমাকে বিয়ে করবে। আগে থেকে পরিকল্পিত ভাবে ঘটনার দিন আমি যখন ফার্মেসিতে যাই তখন আসাদের আত্মীয়রা গাড়ি নিয়ে আসেন। ভাই মিজানকে পানি আনতে পাঠিয়ে আমি ওদের সঙ্গে চলে যাই। সেখান থেকে গোলাপগঞ্জের কালিজুড়ি গ্রামে আসাদের বোনের বাড়িতে যাই এবং সেখানেই ছিলাম এই ক’দিন।

এদিকে জকিগঞ্জ থানা পুলিশ প্রবাসীর স্ত্রী তামান্না আক্তারকে উদ্ধারের সময় তার সাথে থাকা প্রেমিক আসাদের আত্মীয় সোহেল আহমদ ও আব্দুল হককে গ্রেপ্তার করে। থানায় জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে,আসাদের কথা মতো তারা তামান্নাকে কালিজুড়ি নিয়ে যায়। সেখানে রাখার পর তাকে পিতার বাড়ি ফিরিয়ে দিতে যাচ্ছিলো তারা।

জকিগঞ্জে উদ্ধার হলেও তামান্না নিখোজের সাধারণ ডায়রি দায়ের করা হয়েছিলো গোলাপগঞ্জ থানায়। এ কারণে গতকাল শনিবার বিকালে গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশ আটক দু’জন সহ তামান্নাকে গোলাপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করে। জকিগঞ্জ থানার ওসি মীর মোহাম্মদ আবু নাসের জানান, যেহেতু ঘটনাস্থল গোলাপগঞ্জ আর জিডিও করা হয়েছিলো ওই থানায়। তাই উদ্ধার হওয়া তামান্না আক্তারসহ অপর দু’জনকে গোলাপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

গোলাপগঞ্জ থানার ওসি(সাময়িক) আবুল কাশেম বলেন,নিখোজ তামান্না আক্তারকে উদ্ধার করা গেছে এটিই সবচেয়ে বড় বিষয়। প্রচলিত আইন অনুযায়ী আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

অবশেষে তামান্না প্রমাণ করে দিল কবির সেই কাব্য চরণ ” হৃদয় এমনি অবুঝ কারো অধিন নয়। যারে চায় তারে ভালবাসে মানেনা লাজ ভয়।”

 

নিউজটি শেয়ার করুন আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায়..

© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ সিলেট দর্পণ ।

কারিগরি সহায়তায়ঃ-ক্রিয়েটিভ জোন আইটি