মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১, ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তিঃ
আমাদের সিলেট দর্পণ  ২৪ পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে , আমাদেরকে আপনাদের পরামর্শ ও মতামত দিতে পারেন news@sylhetdorpon.com এই ই-মেইলে ।
শামীমাকে কোন অবস্থায় বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হবেনা

শামীমাকে কোন অবস্থায় বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হবেনা

দর্পণ ডেক্স : বেথনাল গ্রিনের ব্রিটিশ-বাঙালি শামীমা আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। ২০১৫ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বেথনাল গ্রিনের স্কুল থেকে অপর দুই বান্ধবীর সাথে সন্ত্রাসীগোষ্ঠি আইএস সদস্যদের সহযোগি হতে সিরিয়ায় পাড়ি জমিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেছিল শামীমা ও তার বান্ধবীরা। অতঃপর সেখানে আইএস সদস্যকে বিয়ে এবং সন্তান প্রসব। বান্ধীরা যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হলেও প্রাণে বেঁচে যায় শামীমা। সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইনান্সিয়াল টাইমসের আবিষ্কৃত শামীমা বৃটেনে ফিরে আসতে সর্বপ্রকার আইনি লাড়াই করে ব্যর্থ হয়।তার জন্য বড় বাধা হয়ে দাাঁড়ায় ব্রিটিশ সরকার। হোম সেক্রেটারি সাজিদ জাভিদ শামীমার সংবাদ জানান পরপরই তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব কেড়ে নেন।

তবে পূর্ব লণ্ডনে বসবাসকারী শামীমার পরিবারের পক্ষ থেকে তার বোন রেণু বেগম হোম সেক্রেটারিকে একটি চিঠি লিখে মানবিক বিবেচনায় শামীমাকে বৃটেন আসার অনুমতি প্রদানের অনুরোধ করে ব্যর্থ হন।

আইএস সংশ্লিষ্টতার কারণে যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব হারানো শামীমা বেগমের বোন রেনু যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদকে একটি চিঠি লিখেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি সেই চিঠির অনুলিপি হাতে পেয়েছে। চিঠিতে রেনু শামীমার নিরাপরাধ শিশু সন্তানকে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
আইএস-এর জিহাদি উন্মাদনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে যুক্তরাজ্য থেকে পালিয়ে সিরিয়ায় গিয়েছিল শামীমা। জঙ্গি বিয়ে করে জিহাদি সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য যে প্রচারণা চালিয়েছিল আইএস, শামীমা তারই বলি হয়েছিল। নেদারল্যান্ডস থেকে সিরিয়ায় যাওয়া এক জঙ্গিকে বিয়ে করেছিল শামীমা। দুইবার গর্ভপাতের শিকার হওয়ার পর সিরিয়ার শরণার্থী শিবিরে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেয় সে।
বোন রেনু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদকে লেখা চিঠিতে দাবি করেছেন, তাদের সঙ্গে শামীমার কোনও যোগাযোগ নেই। তবে পরিবারের সদস্য হিসেবে তার প্রতি দায়বদ্ধতা অনুভব করছেন। সেই দায়বদ্ধতা থেকে তারা চাইছেন, শামীমার শিশু সন্তানকে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে নেওয়া হোক। চিঠিতে রেনু লিখেছেন, শিশুটি সত্যিই নিরাপরাধ, সে এই দেশের (যুক্তরাজ্যের) নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ হারালে তা যথাযথ হবে না। যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, শামীমার নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত তার সন্তানের নাগরিকত্বের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি শামীমা বেগমের নাগরিকত্ব বাতিল করে দেয় যুক্তরাজ্য সরকার। শামীমা বেগমের বাবা বর্তমানে বাংলাদেশের সুনামগঞ্জে বসবাস করছেন। তার মায়ের মতো বাবার জন্মও বাংলাদেশে। সুতরাং ২১ বছর হওয়ার আগ পর্যন্ত শামীমা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার দাবিদার এমন মন্তব্য হচ্ছে খুদ ব্রিটেনে শামীমার বর্তমান বয়স ১৯ বছর প্রায়। বয়স ২১ বছর হয়ে যাওয়ার পর শামীমা তার স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব রাখা না রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে এই সব সমালোচনাও চলছে।

এদিকে বাংলাদেশ শামীমাকে মূূল থেকে আশ্রয় দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাবা-মা বাংলাদেশি হলেও তার বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নেই। আর এর আগে সে কখনো বাংলাদেশে আসেননি।

গতকাল ১৬ জুন পররাাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মুমিন বলেন,যেহেতু শামীমার নাগরিকত্ব বাংলাদেশে নেই।তাই তাকে কোন অবস্থায় বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হবেনা।

 

নিউজটি শেয়ার করুন আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায়..

© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ সিলেট দর্পণ ।

কারিগরি সহায়তায়ঃ-ক্রিয়েটিভ জোন আইটি